সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
Logo খুলনার কয়রায় সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীলদের মাঝে ছাতা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ। Logo চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ব্যাক্তিগত টাকা দিয়ে জনগনের ট্যাক্স পরিশোধ করে দেওয়ার ওয়াদা  Logo নাটোরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য উস্কানিদেয় শরিফুল ইসলাম রমজান। Logo নাটোর বাগাতিপাড়ায় নাইট ক্রিকেট খেলার আয়োজন করা হয়। Logo সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে পুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের অভিযোগ Logo হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে দেবর ভাবি কে শিকলে বেধে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার ১! Logo তাড়াশে পুঁজা মন্ডবে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করেছেন বিশিষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা মোসলেম উদ্দিন   Logo ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন “দৈনিক বাংলার আলো ২৪” বার্তা সম্পাদক”কাজল” Logo দিনাজপুর বিরামপুরে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মটরসাইকেল চালক নিহত? Logo হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে র‍্যাবের অভিযানে ১হাজার ১০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার! 

সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের কেরানি মহির উদ্দিনের কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি !!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ / ১১৬ বার পঠিত
আপডেট : বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের কেরানি মহির উদ্দিন।

  • শাহজাদপুর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের প্রধান অফিস সহকারী(কেরানী)মহির উদ্দিন পৈতিকসুত্রে ১০ শতাংশ জমি পেলেও তার পরিবার পরিজন কয়েক কোটির সম্পদের মালিক বনেছেন।শাহজাদপুর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের প্রধান অফিস সহকারী মহির উদ্দিন সলঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের নকল নবীশ (অস্থায়ী)হিসেবে কর্মজীবন শুরুর পর মহরার এবং পরবর্তীতে প্রধান অফিস সহকারি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে দায়িত্ব পালন করেন। আর এ পদের কারণেই অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে তার পরিবার।
  • ইতোমধ্যেই সলঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে নিজ নামীয়, মাতা মইফুল খাতুন ও স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের নামে কয়েক কোটির সম্পত্তি রেজিষ্ট্রি করেছেন । এছাড়াও গোঁজাপালপাড়ার তিনতলা বাড়ী ও তার সামনে নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত বাসা ও মার্কেটের জায়গাসহ আরো বেশ কয়েকটি জায়গা-জমির দলিল রেজিস্ট্রী অফিসে রয়েছে যা সলঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের ভলিয়ম বই অনুসন্ধান করলেই সত্যতা মিলবে।
  • এদিকে অবৈধপথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ক্রয় করা জায়গা-জমির গোপন তথ্য ফাঁস না হয় তাই তিনি সলঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের সাব-রেজিষ্ট্রারকে তার গোঁজা পালপাড়ার বাসার দোতলায় বিনা ভাড়ায় রেখেছেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। এ বাসায় বসেই মহির উদ্দিনের ক্রয়কৃত জায়গা-জমি অতি গোপনে রেজিষ্ট্রি ও সম্পাদন করা হচ্ছে। অপরদিকে এসকল জায়গা-জমির দাম কম দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন বলে ও অভিযোগ উঠেছে। কেননা যে দামে তিনি জায়গা-জমি কিনেছেন সে দাম দলিলে না তুলে কৌশলে নির্ধারিত মৌজার মুল্য তুলে রেজিষ্ট্রি কবলা করেছেন। এছাড়াও কয়েক কোটি টাকার জায়গা-জমি ও পুকুর কিনে মাতা মইফুল খাতুন ও স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের নামে বায়না করেছেন।
  • বড়গোঁজা ব্রিজের উত্তরপার্শ্বে পালপাড়ায় ১৭ শতক জায়গা কিনে সেখানে গড়ে তুলেছেন ৩ তলা বাড়ী। এই জায়গাটি ৫০ লাখ টাকায় কিনলেও দলিলে করেছেন মাত্র ১৫ লাখ। রেজিষ্ট্রি করেছেন নিজের এবং স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের নামে। অত্যাধুনিক এই বাড়ী নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় কোটি টাকা।এ বাড়ীর সামনে নদীর পশ্চিম তীরে সাড়ে ১০শতক জায়গা কিনে করেছেন বাসা আর মার্কেট। এটাও কবলা করেছেন নিজের ও স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের নামে। জায়গা ক্রয় বাসা মার্কেট নির্মাণে ফাউন্ডেশনসহ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা।২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল সলঙ্গা থানার বড়গোঁজা গ্রামের আব্দুর রহমানের কাছ থেকে ৫০ শতাংশ বাড়ী ৫৫ লাখ দিয়ে কিনে দলিল করেছেন ৩৫ লাখ ।
  • এ জমি রেজিষ্ট্রি করেছেন মাতা মইফুল খাতুনের নামে।,দলিল নং-১৬৮০/১৮। সলঙ্গা থানার চরবেড়া গ্রামের আব্দুল আলীম তালুকদারের নিকট থেকে পুরানবেড়া ৩বিঘা জমি ৩০ লাখে কিনলেও দলিল করেছেন ২০ লাখ টাকা। এ জমি মাতা মইফুল খাতুনের নামে দলিল করেছেন। রেজিষ্ট্রির তারিখ ২-৬-২০২১,দলিল নং-১৪৭৫/২০। বড়গোজা গ্রাম ও মৌজার শাজাহান আলী আকন্দর নিকট থেকে সাড়ে ২৪ শতক বাড়ী ৪৯ লাখ দিয়ে কিনে দলিল করেছেন ৩০ লাখ। এটা রেজিষ্ট্রি করেছেন স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের নামে। রেজিষ্ট্রির তারিখ ১২-৪-২০২১, দলিল নং-১৭০৯/২১।শাহজাহান আলী আকন্দর কাছ থেকে আবার ও তিনি বড়গোজা মৌজার ৫২ শতাংশ জমি ২৫ লাখ টাকা দিয়ে কিনে দলিল করেছেন ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা। এটা রেজিষ্ট্রি করেছেন নিজ নামে। রেজিষ্ট্রির তারিখ ৬-৮-২০২০, দলিল নং-২৩৭৫/২০।
  • সলঙ্গা থানার বড়গোজা মৌজার আবুল কাশেমের নিকট থেকে ৩২শতাংশ জমি কিনেছেন ১৫লাখ টাকয় আর দলিলে তুলেছেন ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এটা রেজিষ্ট্রি করেছেন স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের নামে। রেজিষ্ট্রির তারিখ ২৩-১২-২০২০, দলিল নং-৫৫১৫/২০। সলঙ্গা থানার বড়গোজা গ্রামের আবুল কাশেম,আবুল কালাম আজাদ,কাওছার আলী ও তানজিল হকের নিকট থেকে ২৪শতাংশ জায়গা ১০ লাখ দিয়ে কিনে দলিল করেছেন ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রেজিষ্ট্রি করেছেন স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের নামে। রেজিষ্ট্রির তারিখ ১২-১-২১, দলিল নং ১৫৬/২১

সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের কেরানি মহির উদ্দিন।

  • মহির উদ্দিনের পিতা ওসমান খোন্দকারের বসতবাড়ীসহ মোট জায়গা দেড় বিঘা। পৈত্রিক এ জমি মহির উদ্দিনের ৫ভাইয়ের মধ্যে বন্টিত হওয়ায় ওয়ারিশন সুত্রে তিনি পান ১০ শতাংশ জমি। এদিকে মহির উদ্দিনের ৪ ভাইয়ের মধ্যে জহির উদ্দিন কৃষি শ্রমিক,মজনু,মোস্তফা দর্জি শ্রমিক ও ইউসুফ সলঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের অস্থায়ী বেয়ারার। এদিকে বাবার বসতবাড়ীসহ ওয়ারিশিয়ান সুত্রেপ্রাপ্ত ১০ শতক জায়গার মালিক ও দরিদ্র ঘরের সন্তান মহির উদ্দিন সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে কেরানীর চাকরির সুবাদে করেছেন মাতা মইফুল খাতুন ও স্ত্রী রাজিয়া খাতুনসহ নিজের নামে কয়েক কোটি টাকার জায়গা-জমি,তিনতলা বাড়ী এবং মার্কেটসহ নামে-বেনামে জায়গা-জমিসহ বিভিন্ন ব্যাংকে রেখেছেন বিপুল অঙ্কের টাকা। এব্যাপারে দুদকসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা অনুসন্ধান করলে মহির উদ্দিনের অন্তত ২০ কোটির সম্পদেও হদিস মিলবে বলে এলাকার একাধিক সুত্র জানিয়েছে।
  • আলোচিত কোটি কোটি টাকার সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের কেরানি মহির উদ্দিন কে, এসকল বিষয়ে জানার জন্য ফোনে দিয়ে যোগাযোগ করলেও সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের কেরানি মহির উদ্দিন ফোন রিসিভ না করায় কনো  বক্তব্য পাওয়া যায় নাই।।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর পড়ুন
Theme Customized By Theme Park BD