মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৬:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
Logo সিরাজগঞ্জর-৬ উপনির্বাচন আপনারা নৌকায় ভোট দেন, আপনাদের আধুনিক শাহজাদপুর উপহার দিব প্রফেসর মেরিনা জাহান Logo খুলনার কয়রায় সিরাতুন নবী সঃ উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান উদযাপন। Logo সিরাজগঞ্জ কারাগারে ধর্ষণ মামলার আসামির মৃত্যু Logo বিরামপুরে পুলিশের বিশেষ পৃথক অভিযানে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও জিআর পরোয়ানা আসামী নারী সহ গ্রেফতার ১০ Logo দিনাজপুর বিরামপুরে  আলু চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা Logo শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনের অপসারণ দাবিতে রবি’র শিক্ষার্থীর কীট’নাশক পান, মহাসড়ক অবরোধ Logo বাংলাদেশের উন্নয়নের তথ্য চিত্র তুলে ধরবে “সজীব ওয়াজেদ জয় পরিষদ” মতিউর রহমান টিপু Logo উল্লাপাড়ায় ফুলজোর নদী থেকে মাথাবিহীন অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার। Logo সিরাজগঞ্জে বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলায় একই দিনে ৪ টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনওঃ  Logo ময়মসিংহে বিজিবি সদস্যর আত্নহত্যা বেতনের টাকা পরিবার চালাতে ব্যর্থ অভাবের তাড়নায়  মাথায় গুলি ! 

সিরাজগঞ্জে শাহজাদপুরে ভেজাল গো-খাদ্যের রমরমা ব্যাবসা, হুমকির মুখে গো-সম্পদ

সেলিম রেজা ষ্টাফ রিপোর্টারঃ / ৩৮ বার পঠিত
আপডেট : সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের মোট দুগ্ধ চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ উৎপাদন হয় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে। আর এই বিশাল পরিমাণ দুধের চাহিদা মেটানো হয় শাহজাদপুরের প্রান্তিক গো-খামারিরা।
এই বিশাল পরিমাণ গো-খাদ্যের সরবরাহ করা হয় বিভিন্ন মিল কারখানায় উৎপাদিত গো-খাদ্যের মাধ্যমে। আর এই অঞ্চলের গাভী গুলোকে কেন্দ্র করে শাহজাদপুরে গড়ে উঠছে অসংখ্য ভুষির দোকান, পাশাপাশি চলছে ভেজাল ভুসির রমরমা ব্যাবসা, এতে উপজেলার শত শত খামারিরা প্রতারিত হচ্ছেন।
ভুষিতে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকর পলিথিনের গুড়ো সহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ উপাদান
শাহজাদপুর পৌর শহরের দ্বারিয়াপুর বাজারের বুসিপট্টি সহ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে প্রায় ২শো ছোটবড় গো-খাদ্যের দোকান রয়েছে। প্রায় প্রতিটি দোকানেই অনুমোদনহীন, মেয়াদহীন ও অস্বাস্থ্যকরভাবে প্যাকেটজাত করে বিক্রয় করা হচ্ছে।
এই সকল অনুমোদনহীন ও ভেজাল মিশ্রন ভুষি খাওয়ানের কারনে গাভীগুলোর পজনন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, পাকস্থলীর বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, দুধ উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে এমনকি অনেক সময় খামারিদের অনেক গাভীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
জানা গেছে, খামারিদের পালিত গাভীগুলোকে যে খাদ্যগুলো খাওয়ানো হয় সেগুলো যথাক্রমে তিলের খৈল, সরিষার খৈল, নারিকেলের খৈল, খেশারীর ভূষি, মশুরের ভূষি, সোলার ভূষি, এ্যাংকার ভুষি, মটর ভুষি, ডাবরির ভুষি, ধানের কুড়া ও আলুর ভুষি ইত্যাদি।
প্রায় প্রতিটি দোকানেই এভাবে সাজিয়ে রেখে বিক্রি করা হয় অনুমোদনহীন ভুষি
শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন গো-খাদ্যের দোকান পরিদর্শণ করে আরো ভয়ঙ্কর চিত্র উঠে এসেছে। অনেক দোকানা ও গোডাউনে বিভিন্ন প্রকার গো-খাদ্য ও ভুসির মধ্যে মেশানো হচ্ছে পচা ডালের গুঁড়া, চালের তুষ, কাঠের গুড়া, চক পাউডাল, পলিথিনের গুড়া ও পচা আটাসহ নানা ধরনের ক্ষতিকর উপাদান।
এছাড়া বস্তার গায়ে কোন প্রকার লেভেল লাগানো নেই। যা সরকারি ২০১০ সালের আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ, এই আইনে উল্লেখ আছে যে, বস্তার গায়ে তৈরির তারিখ, মেয়াদ শেষের তারিখ, ব্যবহৃত উপদানের উল্লেখ থাকা আব্যশক।
একশ্রেণির অসাধু গো-খাদ্য ব্যবসায়ী দেশীয় ও ভারত থেকে আমদানি করা ডাল ও গমের ভুসির সঙ্গে এসব ভেজাল মিশিয়ে ইলিশ মাছ, ট্রাকটর ও গাভী মার্কা সহ নানা ধরনের লেবেল লাগিয়ে খামারিদের ঠকিয়ে বাজারজাত করছেন। ক্ষতিকর এসব ভেজাল গোখাদ্য কিনে খামারিরা যেমন প্রতারিত হচ্ছেন, তেমনি তাদের গরু-মহিষগুলোও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
ইতিমধ্যে বেশকয়েকটি ভেজাল ও অনুমোদনহীন গো-খাদ্যের দোকানে শাহজাদপুর উপজেলা পশু সম্পদ দপ্তরের মাধ্যমে দ্বারিয়াপুর ভুষিপট্টি, পোরজনা, তালগাছিসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা জরিমানা করা হয়েছে, তারপরও এই সকল অসাধু ব্যবসায়ীরা খামারিদের ঠকিয়েই চলেছে।
শাহজাদপুরের রেশমবাড়িতে অবস্থিত গো-চারণ ভুমির একটি বাথানের বেশকিছু গাভী
তোফাজ্জল হোসেন নামের শক্তিপুর গ্রামের একজন প্রান্তিক খামারি জানান, প্রশাসনের চোখের সামনে শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারের প্রতিটি গো-খাদ্যের দোকানে প্রকাশ্যে ভেজাল ভুষির রমরমা ব্যবসা চলছে। আমরা ক্ষুদ্র খামারিরা বাধ্য হয়েই এইসকল ভুষি ক্রয় করছি,
প্রশাসন যদি এই ভেজাল গো-খাদ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয় তাহলে শাহজাদপুর উপজেলার যে ঐতিহ্য রয়েছে সেটা দুগ্ধজাতীয় গাভীগুলো মড়কের মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা গো-খাদ্য ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পূর্বে আমরা সততার সাথে গো-খাদ্য বিক্রি করতাম। তবে বর্তমানে অনেক নতুন ব্যবসায়ী তৈরি হয়েছে যারা অধিক মুনাফার লোভে এই অবলা প্রাণীদের খাদ্যে ভেজাল মেশানো শুরু করেছে।
তিনি আরও জানান, আমাদের সমিতির পক্ষ থেকে ভেজাল ভুষির বিষয়ে একটি মিটিং করা হয়েছে। মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আমরা চিঠির মাধ্যমে এই অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানাবো।
শাহজাদপুর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মীর কাওছার হোসেন জানান, শাহজাদপুর উপজেলায় বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু পালন করা হয়ে থাকে। এ কারণে উপজেলা ব্যাপী ভুসিসহ গো-খাদ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। একারণে উপজেলা জুড়ে অনেক পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, তবে বেশকিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও ভেজাল গো-খাদ্যের কারণে গরু, মহিষগুলো যেমন অসুস্থ হয়ে পড়ছে তেমনি দুধ উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। এ ভেজাল ভুসি বিক্রি বন্ধ করা না গেলে দুগ্ধ খামারিরা হুমকির মুখে পড়বে।
এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডাঃ মিজানুর রহমান বলেন, আমরা সবসময় গবাদিপশু ও খামারিদের কল্যাণে কাজ করে থাকি। যেসকল অসাধু ব্যবসায়ী গো-খাদ্যের ভেতরে ভেজাল মিশ্রণ করছেন ও অনুমোদনহীন নামসর্বস্ব্ গো-খাদ্য বিক্রির সাথে জড়িত দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর পড়ুন
Theme Customized By Theme Park BD