বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
Logo দিনাজপুর বিরামপুরে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  Logo হবিগঞ্জে র‍্যাব -৯সিপিসি-১অভিযানে ধর্ষন মামলার পলাতক আসামী গ্রেফতার Logo বিরামপুরে শীতকালীন সবজি ওঠায় দাম কমেছে স্বস্তি ফিরছে সাধারণ মানুষের! Logo সিরাজগঞ্জে বেলকুচিতে শিক্ষা অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ টাকা দিলেই ফাইল নড়ে Logo নবাবগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার স্ত্রী,স্বামী সুজন গ্রেফতার  Logo হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে জুয়া খেলার অপরাধে ৬ জনকে কারাদণ্ড ও অর্থদন্ড প্রদান!  Logo সিরাজগঞ্জে ডাকাতি প্রস্তুতিকালে রিভালবার ও গুলিসহ ৬ ডাকাত আটক  Logo খানসামায় সম্প্রতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা  Logo নাটোরে শিমুলের নেতৃত্বে সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তির শোভাযাত্রা। Logo দিনাজপুর বিরামপুরে সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস কেরানী মহির উদ্দিনের আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ!!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ / ৪২৭ বার পঠিত
আপডেট : সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ
ছবি: শাহজাদপুর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের কেরানী মহির উদ্দিন।

সিরাজগঞ্জ জেলাধীন সলঙ্গা থানার সলঙ্গা ইউনিয়নের বড়গোঁজা গ্রামের মৃত্যু ওসমান খোন্দকারের ছেলে ও শাহজাদপুর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের প্রধান অফিস সহকারী (কেরানী) মহির উদ্দিন তার কর্মজীবন শুরু করেন সলঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের নকল নবীশ (অস্থায়ী)হিসেবে। সেখান থেকে  তিনি দীর্ঘ সময় পার করে প্রথমে মহরার এবং পরবর্তীতে প্রধান অফিস সহকারী হিসেবে পদোন্নতি লাভ করে বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে দায়িত্ব পালন করেন। আর এই পদের কারণেই তিনি হয়েছেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ ও অঢেল সম্পদের মালিক। মহির উদ্দিনের বাবা মৃত্যু ওসমান খোন্দকারের বসতবাড়ীসহ মোট জায়গার পরিমান হলো দেড় বিঘা। কিন্তু সেই দেড় বিঘা জায়গা মহির উদ্দিনের ৫ভাইয়ের মধ্যে বন্টন হলে ওয়ারিশিয়ান সুত্রে মহির উদ্দিন প্রাপ্ত হন ১০শতক জায়গা। এদিকে  মহির উদ্দিন ব্যতিত তার অন্য ৪ভাই দারিদ্রতার কষাঘাতে আজ জর্জড়িত। এই ৪ ভাইয়ের মধ্যে জহির উদ্দিন কৃষি শ্রমিক,মজনু,মোস্তফা,
দর্জি শ্রমিক ও ইউসুফ সলঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের অস্থায়ী বেয়ারার।

এদিকে বাবার বসতবাড়ীসহ ওয়ারিশিয়ান  সুত্রেপ্রাপ্ত ১০ শতক জায়গার মালিক ও দরিদ্র ঘরের সন্তান মহির উদ্দিন আজ সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে কেরানীর চাকরির সুবাদে করেছেন মাতা মইফুল খাতুন ও স্ত্রী রাজিয়া খাতুনসহ নিজের নামে কয়েক কোটি টাকার জায়গা-জমি,তিনতলা বাসা-বাড়ী এবং মার্কেটসহ নামে-বেনামে জায়গা-জমি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে করেছেন ব্যাংক ব্যালেন্স এবং দুদ’কসহ প্রশাসনের গোয়েন্দা সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতে নিজ বসতবাড়ীর গোপন কুঠরিতে রক্ষিত রেখেছেন অবৈধ পথে উপার্জিত টাকা। সেই টাকা দিয়েই জায়গা-জমি কিনছেন এবং তা পর্যায়ক্রমে রেজিষ্ট্রি করছেন ও একের পর এক বায়না করছেন।

ইতোমধ্যেই কয়েক কোটি টাকার বিনিময়ে ক্রয়করা জায়গা-জমি তিনি সলঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের মাধ্যমে নিজ নামসহ মাতা মইফুল খাতুন ও স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের নামে রেজিষ্ট্রি করেছেন যার কয়কটি রেজিষ্ট্রির তারিখ ও দলিল নং আবেদনে সংযুক্ত। এছাড়াও গোঁজাপালপাড়ার তিনতলা বাসা ও তার সামনে নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত বাসা ও মার্কেটের জায়গাসহ আরো বেশ কয়েকটি জায়গা-জমির দলিল রেজিস্ট্রী অফিসে রয়েছে যা সলঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের ভলিয়ন বই তলফ করলেই বের হবে। এদিকে অবৈধপথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ক্রয় করা জায়গা-জমির গোপন তথ্যগুলো যেন ফাঁস না হয় সে বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি সলঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের সাব-রেজিষ্ট্রারকে তার গোঁজা পালপাড়ার বাসার দোতলায় বিনা ভাড়ায় রেখেছেন। ওই বাসায় বসেই মহির উদ্দিনের ক্রয়কৃত জায়গা-জমি অতি গোপনে রেজিষ্ট্রি ও সম্পাদন করা হচ্ছে। অপরদিকে এসকল জায়গা-জমি রেজিস্ট্রীর নামে সরকারকেও রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন মহির উদ্দিন। কেননা যে দামে তিনি জায়গা-জমি কিনেছেন সে দাম দলিলে না তুলে কৌশলে নির্ধারিত মৌজার মুল্য তুলে রেজিষ্ট্রি কবলা করেছেন। এছাড়াও কয়েক কোটি টাকার জায়গা-জমি ও পুকুর কিনে মাতা মইফুল খাতুন ও স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের নামে বায়না করেছেন।

মহির উদ্দিনসহ তার মাতা মইফুল খাতুন ও স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের নামে ক্রয়কৃত কয়েকটি জায়গা-জমি রেজিষ্ট্রির তারিখ এবং দলিল নং উল্লেখসহ আরো যাদের জায়গা-জমি ও পুকুর বায়না করেছেন তাদের নাম ও ঠিকানা নিম্নরুপঃ

১. বড়গোঁজা ব্রীজের উত্তরপার্শ্বে পালপাড়ায় ১৭ শতক জায়গা কিনে সেখানে গড়ে তুলেছেন ৩ তলা বাড়ী। এই জায়গাটি কিনেছেন ৫০ লাখ টাকা দিয়ে আর দলিলে তুলছেন মাত্র ১৫ লাখ। রেজিষ্ট্রি করেছেন নিজের নামে এবং  স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের নামে। অত্যাধুনিক এই বাড়ী  নির্মানে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১কোটি টাকা।

২.ওই বাড়ীর সামনেই নদীর পশ্চিম তীরে সাড়ে ১০শতক জায়গা কিনে করেছেন বাসা আর মার্কেট। এটাও কবলা করেছেন নিজের নামে ও স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের নামে। এই জায়গা ক্রয়সহ বাসা ও মার্কেট নির্মানে ফাউন্ডেশনসহ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা।

৩.আব্দুর রহমান,পিতা আকবর আকন্দ,গ্রাম বড়গোঁজা,থানাঃসলঙ্গার নিকট থেকে ৫০ শতক বাড়ী কিনেছেন ৫৫ লাখ টাকা দিয়ে কিন্তু দলিলে তুলছেন ৩৫ লাখ টাকা। এটা রেজিষ্ট্রি করেছেন মাতা মইফুল খাতুনের নামে। রেজিষ্ট্রির তারিখ-১৭/৪/১৮,দলিল নং-১৬৮০/১৮।

৪. আব্দুল আলীম তালুকদার,পিতা নজাব তালুকদার গ্রামঃচরবেড়া, থানাঃসলঙ্গার নিকট থেকে পুরানবেড়া মৌজায় ৩বিঘা জমি কিনেছেন ৩০ লাখ টাকা দিয়ে কিন্তু দলিলে তুলেছেন ২০ লাখ টাকা। এটা রেজিষ্ট্রি করেছেন মাতা মইফুল খাতুনের নামে। রেজিষ্ট্রির তারিখঃ২/৬/২০২১,দলিল নং-১৪৭৫/২০।

৫.শাহজাহান আলী আকন্দ,পিতা মৃত্যু তছির উদ্দিন আকন্দ,গ্রাম ও মৌজা বড়গোজার নিকট থেকে সাড়ে ২৪শতক বাড়ী  কিনেছেন ৪৯ লাখ টাকা দিয়ে কিন্তু দলিলে তুলেছেন ৩০ লাখ টাকা। এটা রেজিষ্ট্রি করেছেন স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের নামে। রেজিষ্ট্রির তারিখঃ১২/৪/২০২১, দলিল নং-১৭০৯/২১।

৬.শাহজাহান আলী আকন্দ,পিতা মৃত্যু তছির উদ্দিন আকন্দ,গ্রাম ও মৌজা বড়গোজার নিকট থেকে ৫২ শতক জমি কিনেছেন ২৫লাখ টাকা দিয়ে অথচ দলিলে তুলেছেন ১২লাখ ২০ হাজার টাকা। এটা রেজিষ্ট্রি করেছেন নিজের নামে। রেজিষ্ট্রির তারিখঃ৬/৮/২০২০, দলিল নং-২৩৭৫/২০।

৭.আবুল কাশেম পিতা মৃত্যু মকবুল হোসেন, গ্রাম ও মৌজা বড়গোজা,থানাঃসলঙ্গার নিকট থেকে  ৩২শতক জমি কিনেছেন ১৫লাখ টাকা দিয়ে আর দলিলে তুলেছেন ৭লাখ ৫০ হাজার টাকা। এটা রেজিষ্ট্রি করেছেন স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের নামে। রেজিষ্ট্রির তারিখঃ২৩/১২/২০২০, দলিল নং-৫৫১৫/২০।

৮.আবুল কাশেম,আবুল কালাম আজাদ,কাওছার আলী ও তানজিল হক গ্রাম ও মৌজা বড়গোজা,থানাঃসলঙ্গার নিকট থেকে ২৪শতক জায়গা কিনেছেন ১০লাখ  টাকা দিয়ে অথচ দলিলে তুলেছেন ৫লাখ ৬০ হাজার টাকা। রেজিষ্ট্রি করেছেন স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের নামে। রেজিষ্ট্রির তারিখঃ১২/১/২০২১, দলিল নং-১৫৬/২১।

৯.শাহজাহান আলী আকন্দ ওরফে শাহজাহান কেরানী,পিতা মৃত্যু তছির উদ্দিন আকন্দ,গ্রাম ও মৌজা বড়গোজার নিকট থেকে পাচকুড়ায় ৩৬ শতক ও মরাবিলে ২০ শতক,মোট ৫৬ শতক জায়গা কিনেছেন ৩০ লাখ টাকা দিয়ে কিন্তু দলিলে তুলেছেন ১৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। রেজিষ্ট্রি করেছে ১৫/১৬/১৭  সালের মধ্যে ।

১০.শহিদুল/সদরুলগং পিতা জালাল বড়গোজার নিকট থেকে রামারচরের পশ্চিমে গারাদহ নদীর পুর্বপাশে
৪০শতক জায়গা ৪০লাখ টাকা মুল্য নির্ধারন করে বায়না করেছেন,যা অফিস খুললেই রেজিষ্ট্রি হবে সলঙ্গা সাব-রেজিষ্ট্রী অফিসে।

১১.বাসুদেবকোল কলেজ পাড়ায় শ্বাশুড়ীর নিকট থেকে সলঙ্গা ডিগ্রী কলেজের পুর্ব-উত্তর পাশে বাসুদেবকোল মৌজায় ১৫শতক জায়গা ৩০লাখ টাকায় কিনে স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের নামে বায়না করেছেন।

১২. জিতেন্দ্র নাথ খলিফা,গোজা পালপাড়ার জায়গা ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে বায়না করা হয়েছে।

১৩.আব্দুর রহমান পিতা মৃত্যু আকবর আকন্দ’র ৭ বিঘা পুকুর ৯০ লাখ টাকা নির্ধারন করে বায়না করা হয়েছে। শুধু লকডাউনে অফিস বন্ধ থাকায় কবলা হয়নি। অফিস খুললেই যে কোন সময়ে তার স্ত্রী রাজিয়া খাতুন ও মাতা মইফুল খাতুনের নামে সলঙ্গা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে রেজিষ্ট্রি হবে।

এভাবে নামে-বেনামে অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন এই মহির উদ্দিন। সামান্য একজন কেরানী হয়ে কিভাবে এতো সম্পদের মালিক হলেন এবং একের পর এক নামে বেনামে সম্পদ অর্জন করছেন সে অর্থের উৎস কোথায় তা অনুসন্ধান করলেই বেড়িয়ে আসবে থলের বিড়াল। সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে নানা কায়দা-কানুনে ঘুষ,দুর্নীতির মাধ্যমে জনগণের অর্থ লুন্ঠন করে মহির উদ্দিন নামে বেনামে যে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন ও একাধিক ব্যাংকে ব্যাংক ব্যালেন্স করেছেন এবং বসতবাড়ীর গোপন কুঠুরিতে যে অর্থ লুকিয়ে রেখেছেন সেই অর্থের উৎস ও জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের বিষয়টি  উদঘাটন ও তার বিরুদ্ধে জনস্বার্থে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা একান্ত প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর পড়ুন
Theme Customized By Theme Park BD