বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১২:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
Logo দিনাজপুর বিরামপুরে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  Logo হবিগঞ্জে র‍্যাব -৯সিপিসি-১অভিযানে ধর্ষন মামলার পলাতক আসামী গ্রেফতার Logo বিরামপুরে শীতকালীন সবজি ওঠায় দাম কমেছে স্বস্তি ফিরছে সাধারণ মানুষের! Logo সিরাজগঞ্জে বেলকুচিতে শিক্ষা অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ টাকা দিলেই ফাইল নড়ে Logo নবাবগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার স্ত্রী,স্বামী সুজন গ্রেফতার  Logo হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে জুয়া খেলার অপরাধে ৬ জনকে কারাদণ্ড ও অর্থদন্ড প্রদান!  Logo সিরাজগঞ্জে ডাকাতি প্রস্তুতিকালে রিভালবার ও গুলিসহ ৬ ডাকাত আটক  Logo খানসামায় সম্প্রতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা  Logo নাটোরে শিমুলের নেতৃত্বে সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তির শোভাযাত্রা। Logo দিনাজপুর বিরামপুরে সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা

৩১ আগস্ট ১৯৭১ সালে ঢাকার একটি গেরিলা দল আক্রমণ করে সূত্রাপুর থানা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ / ৭২ বার পঠিত
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩১ আগস্ট, ২০২১, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
গেরিলারা পাকহানাদের অতর্কিত আক্রমণ চালায়। ফাইল-ছবি

১৯৭১ সালের ৩১ আগস্ট দিনটি ছিল মঙ্গলবার। এদিন ঢাকার একটি গেরিলা দল সূত্রাপুর থানা আক্রমণ করে। এতে ২ জন পুলিশ নিহত ও ২ জন আহত হয়। ঢাকার কলাবাগানে পাকিস্তানী পুলিশের উপর আকস্মিক আক্রমণ করে মুক্তিবাহিনীর গেরিলাদল। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ হতাহত হয়।

এদিন মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল কালিগঞ্জ- ডেমরা এবং অপর আরেক দল কালিগঞ্জ-টংগী-র মাঝে ৪টি বিদ্যুৎ পাইলন ধ্বংস করে দেয়। মুক্তিবাহিনীর গেরিলা দল নরসিংদীর শিবপুর থানা আক্রমণ করে থানা ও রাজস্ব অফিস জ্বালিয়ে দেয়। গেরিলারা থানা থেকে ৮টি রাইফেল, ৫টি শর্টগান ও ৪০ রাউন্ড গুলি দখল করে। এ খবর পেয়ে নরসিংদী থেকে পাকসেনাদের একটি কোম্পানী ঘটনাস্থলের দিকে অগ্রসর হলে আরেকটি গেরিলা দল পুটিয়রের কাছে তাদের অ্যামবুশ করে। চারঘন্টা সংঘর্ষের পর গেরিলাদের চাপের মুখে টিকতে না পেরে পাকসেনারা ছত্রভঙ্গ হয়ে নরসিংদীর দিকে পালিয়ে যায়। এক সংঘর্ষে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন সেলিমসহ ৩৩ জন পাকসেনা নিহত হয়। 

রাত ২টার দিকে পাকসেনা ও রাজাকারদের দুটো কোম্পানী সিলেটের টাকাইকোনা, বঘা এবং খড়মপুর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর আক্রমণ করে। কিন্তু মুক্তিফৌজের প্রবল প্রতিরোধের মুখে হানাদাররা ভোর ৪:৩০ এর দিকে ফিরে যায়। এ সময় মাইন বিস্ফোরণে শত্রুদের ৬ জন নিহত হয়ে। দুপুর ১টার দিকে শত্রুরা একই দিক থেকে আবারো মরনপণ আক্রমণ করে, কিন্তু মুক্তিবাহিনীর ৩” মর্টারের সফল গোলাবর্ষণের ফলে তারা আবারো পিছাতে বাধ্য হয় বিকেল ৪ টার দিকে। হানাদারদের ৭ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়। গেরিলাদের মধ্যে দুজন বুলেটের আঘাতে এবং ২ জন গোলার আঘাতে আহত হয়।

সকাল ৯-১০ টায় পাকহানাদার বাহিনী সুনামগঞ্জের কিছু রাজাকার, আলবদর নিয়ে জগন্নাথপুর হতে ৮-৯টি নৌকায় ছিরামিসি বাজারে আসে। রাজাকাররা গ্রামবাসীকে শান্তি কমিটির মিটিংয়ে উপস্থিত থাকার জন্য ছিরামিসি উচ্চ বিদ্যালয়ে জমায়েত হতে নির্দেশ দেয়। আগত সবাই স্কুল হল রুমে আলোচনা আরম্ভ করার জন্য অপেক্ষা করবার সময় বর্বররা শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী ও যুবকদের আলাদা রুমে ডেকে নিয়ে পেছন দিক দিয়ে হাতগুলো বেঁধে ১৫-১৬ জনের এক একটি দল করে নদীর পারে নৌকায় নিয়ে নির্বিবাদে গুলি চালায়। কোন কোন দলকে নিকটবর্তী পুকুরপাড়ে সারবেঁধে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে। এদের মধ্যে কেউ কেউ পানিতে পড়ে বাঁচার চেষ্টা চালালে পুকুরপাড় থেকে পাক বর্বররা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা করে। এভাবে পাক জল্লাদরা ছিরামিসি গ্রামের ১২৬ জন নিরীহ নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করে। হত্যাযজ্ঞের পর শুরু হয় ধ্বংসযজ্ঞ। ছিরামিসি বাজারের ২৫০টি দোকান কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করে পাক হানাদাররা। সেখান থেকে হানাদাররা জনশূন্য গ্রামে গিয়ে লুটতরাজ চালায় ও ঘরবাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর পড়ুন
Theme Customized By Theme Park BD