সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০১:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
Logo সিরাজগঞ্জে শাহজাদপুর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে চুল কর্তন স্বপদে বহাল শিক্ষক ফারহানা Logo সিরাজগঞ্জে উল্লাপাড়ায় ভোটের তথ্য সংগ্রহে গিয়ে ছাত্রলীগের মারধরে আহত দুই সাংবাদিক  Logo দূর্নীতি ও জালিয়াতির কারিগর আব্বাস বাহিনীর ষড়যন্ত্রে বিধ্বস্ত সাংবাদিক পরিবার Logo খালেদা জিয়ার বিদেশে সুচিকিৎসা-মুক্তি ও দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপির লিফলেট বিতরণ Logo সিরাজগঞ্জে শাহজাদপুরে নব নির্বাচিত এমপি প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতাকে ফুলেল শুভেচছা   Logo সিরাজগঞ্জে আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো আঞ্চলিক ইজতেমা Logo সিরাজগঞ্জে কেক কাটার মধ্যদিয়ে শেষ হলো নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  Logo খানসামায় পুকরের পানিতে ডুবে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু  Logo শাহজাদপুরে ছেলের লাশ টয়লেটের ট্যাংকিতে পুঁতে ভোট প্রার্থনায় পিতা-মাতা Logo ৭নং লালোর ইউপি নির্বাচনে ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর সরদার।

বারবার অনৈতিক প্রস্তাব নাকচ করায় চাকরি গেল ব্র্যাক কর্মীর

দৈনিক বাংলার আলো ২৪ ডেস্ক / ৮৮ বার পঠিত
আপডেট : রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১, ১১:০৭ অপরাহ্ণ

ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডোমারে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে করোনাকালে ব্র্যাক এনজিওর এক নারী কর্মীকে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বিকেলে জেলা শহরের মিডিয়া হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করে জেলা মহিলা পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ব্র্যাকের ডোমার উপজেলার মিরজাগঞ্জ শাখায় ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমে ব্যবস্থাপক পদে কর্মরত ছিলেন মৌসুমী দাস। সংস্থাটিতে টানা ১৫ বছর কর্মরত থেকে ওই শাখায় ব্যবস্থাপক পদে তিনি কাজ করেছেন পাঁচ বছর। দীর্ঘ সময় সুনামের সঙ্গে কাজ করলেও চলতি বছর ২৪ জুন এক হাজার ৪০০ টাকা হিসাবের গরমিলের অজুহাতে চাকরিচ্যুত করা হয় তাকে। বিষয়টি নিয়ে মহিলা পরিষদ সরেজমিনে মৌসুমী দাস এবং ব্র্যাকের ডোমার এরিয়া কার্যালয়ের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে। এতে বেরিয়ে আসে মৌসুমী দাসের সঙ্গে এরিয়া ব্যবস্থাপক নাজমুল হকের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কথা।

জেলা মহিলা পরিষদ জানায়, নাজমুল হক দুশ্চরিত্রের হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে অধীনস্ত নারী কর্মীরা তার কাছে হেনস্তার শিকার হন। সেই হেনস্তা থেকে বাদ পড়েননি মৌসুমী দাসও। তাকে বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। এতে সাড়া না পেয়ে মাত্র এক হাজার ৪০০ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনে ওই টাকা জমা নিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা চাওয়ার পরও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাকে। একই সময়ে ওই কার্যালয়ে মৌসুমী দাসের সঙ্গে আরেক নারী কর্মীর নামেও দুই হাজার টাকার আর্থিক গরমিলের অভিযোগ আনা হলে তিনিও টাকা জমা করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অথচ ওই নারী কর্মীর চাকরি বহাল থাকলেও চাকরিচ্যুত করা হয় মৌসুমী দাসকে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি দৌলত জাহান ছবি, সহ-সভাপতি মহসেনা বেগম, আইন বিষয়ক সম্পাদক আফরোজ আরা রাণী ও ব্র্যাকের চাকরিচ্যুত কর্মী মৌসুমী দাস।

মৌসুমী দাস বলেন, আমি সেখানে পাঁচ বছর ধরে কাজ করছি। বর্তমান এরিয়া ম্যানেজার নাজমুল হক এখানে এসেছেন এক বছর ৯ মাস আগে। তিনি এখানে যোগদানের পর থেকেই নানা অজুহাতে আমাকে হেনস্তার মিশনে নামেন। বিভিন্ন সময়ে আমাকে রাতে অফিসে ডাকতেন। এতে সাড়া না পেয়ে চাকরিচ্যুতির খড়গ নামে আমার ওপর। এসব বিষয় আমি পূর্বকালীন বিভাগীয় ব্যবস্থাপক গোলাম সারোয়ারকে একাবিকবার অবগত করেছি।

তিনি আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে একইদিন একই অভিযোগ আরেক কর্মীর বিরুদ্ধেও আনা হয়। অথচ ওই কর্মীর চাকরি বহাল থাকলেও করোনাকালে আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। চাকরি হারিয়ে আমি পরিবার নিয়ে দিশেহারা। এ পরিস্থিতিতে এরিয়া ম্যানেজার নাজমুল হক আমাকে এলাকা ছাড়া করতে হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত হননি, আমার বিরুদ্ধে ডোমার থানায় জিডিও করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মৌসুমী বলেন, ২০২০ সালের ফ্রেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে সংশ্লিষ্ট মাঠকর্মীর অনুপস্থিতিতে একজন ঋণগ্রহীতার এক হাজার ৪০০ টাকা জমা নিয়ে অফিসে জমা না করার অভিযোগ আনা হয়। দায়িত্বটি আমার না হলেও ওই টাকা আমি তাৎক্ষণিক অফিসে জমা করে ক্ষমা প্রার্থনা করি। একইভাবে আরেক কর্মীর বিরুদ্ধে দুই হাজার টাকার অভিযোগ আনা হলে তিনিও অফিসে টাকা জমা করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাকে ক্ষমা করা হলেও আমাকে চাকরিচ্যুত করা হলো।

জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি দৌলত জাহান ছবি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা সেখানে যাই। অফিস এবং মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা হলে ব্যক্তিগত আক্রোশের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। ব্র্যাকের কাছে করোনাকালে একজন নারী কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার বিষয়টি আমাদের কাছে অমানবিক বলে মনে হয়েছে। আমরা তার চাকরি পুনর্বহাল এবং তদন্ত করে সঠিক ঘটনাটি উদঘাটনের মাধ্যমে ন্যায় বিচার আশা করছি।

মৌসুমী দাসকে অনৈতিক প্রস্তাবের বিষয়টি অস্বীকার করে এরিয়া ব্যবস্থাপক নাজমুল হক বলেন, ওই শাখা ব্যবস্থাপকের আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি আমাদের মনিটরিং সেলের কাছে ধরা পরে। এরপর তিনি দোষ স্বীকার করে অফিসে টাকা জমা করেন। কোনো কর্মীর চাকরিচ্যুতির বিষয়ে হেড অফিস থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তার বিষয়েও হেড অফিস সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখানে আমার কোনো হাত নেই।

একই অনিয়মের অভিযোগে আরেক কর্মীর চাকরি বহাল থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, ওই কর্মীর এক দফায় দুই হাজার টাকার অভিযোগ আসে। কিন্তু মৌসুমী দাসের বিরুদ্ধে দুই দফায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকায় হেড অফিস তাকে টার্মিনেশন লেটার দিয়েছে।

ব্র্যাকের জেলা প্রতিনিধি আখতারুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সময়ে মৌসুমী দাসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মনিটরিং এবং অডিট করা হলে সত্যতা পাওয়া যায়। একই কথা বলেন, ব্র্যাকের রংপুর বিভাগীয় ব্যবস্থাপক আফজাল হোসেন। তবে মৌসুমী দাস দ্বিতীয় দফায় আর্থিক অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

এ জাতীয় আরও খবর পড়ুন
Theme Customized By Bd It Host
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: