মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১২:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশে তেল বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী Logo যমুনায় বিলীন হলো পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি Logo জামালপুরে জেলা ও শহর যুবদলের দোয়া-মিলাদ মাহফিল Logo আ.লীগের কেন্দ্রীয় সভা শনিবার, আসবে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত Logo তাড়াশ ক্যাবল নেটওয়ার্ক ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষে আহত ১ Logo নবাবগঞ্জে হঠাৎ কাল বৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ৬টি গ্রাম Logo নড়াইলে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের বিভাগীয় নেতা গ্রেপ্তার Logo নড়াইলের লোহাগড়ায় অসহায় দুস্থদের ঈদ উপহার দিলেন সেনাপ্রধান Logo তাড়াশে ভিজিডি কার্ডের চাউল বিতরণ Logo উত্তরবঙ্গের সূর্য সারতীর ১ম মৃত্যু বার্ষিকীতে তাড়াশ পৌর প্রেসক্লাবের বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন

বাবার দোকানের পার্টটাইম চা বিক্রেতা হলেন হাইস্কুলের শিক্ষক

দৈনিক বাংলার আলো ২৪ ডেস্ক / ১৭১ বার পঠিত
আপডেট : রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১, ১১:১৯ অপরাহ্ণ

পাবনা প্রতিনিধি:

রসায়ন শাস্ত্রে অনার্সসহ মাস্টার্স সম্পন্ন করা তৌহিদুল ইসলাম শাকিল। তিনি পাবনার বেড়া উপজেলার মাশুমদিয়া এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি পড়াশোনা শেষ করেছেন পাবনার সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে। ৫ম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই পড়াশোনার ফাঁকে অবসরে বা ছুটির দিনে বাবার দোকানে চা বিক্রি করতেন।

কলেজ জীবন থেকে তিনি টিউশনিও করতেন। তিনি পরিচিতজনদের বলতেন চা বিক্রির কাজে তিনি মোটেও বিব্রত নন। তবে তার আশা ছিল শিক্ষকতা করবেন। তার সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তিনি এনটিআরসিএ কর্তৃক শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হয়ে বৃহস্পতিবার নিয়োগ আদেশ পেয়েছেন।

কিছুদিন আগেও শাকিল বলেছিলেন, স্কুল-কলেজে শিক্ষকতা করার স্বপ্ন নিয়েই আমি আমার সাধ্যমতো পড়াশোনা করেছি। আত্মবিশ্বাসী শাকিল বলেছিলেন- চাকরি আমার একদিন হবেই। কিন্তু চাকরি না হওয়া পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও অলস সময় কাটাতে চাই না। তাছাড়া আমাদের আর্থিক অবস্থা বেশ খারাপ। আমার আরও দুই ভাই-বোন লেখাপড়া করে। তাদের পড়ার খরচ যোগাতে আমার বাবা হিমশিম খান। তাই সকাল-বিকেলে বাবার সঙ্গে চায়ের দোকানে কাজ করি।

পাবনার বেড়া উপজেলার মাশুমদিয়া কলেজ বাজারে চায়ের দোকান রয়েছে তৌহিদুল ইসলাম শাকিলের বাবার। তার বাবা মজিদ মোল্লা একসময় পরিবহন শ্রমিকের কাজ করতেন। প্রায় ১৩ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন তিনি। সংসার চালাতে তিনি কলেজ বাজারে ছোট একটি চায়ের দোকান দেন। শাকিল তখন ৫ম শ্রেণির ছাত্র। ওই সময় থেকেই তিনি বাবাকে চায়ের দোকান চালাতে সাহায্য করে আসছিলেন। চা বানিয়ে নিজেই পরিবেশনও করতেন।

একদিকে বাবার সঙ্গে চায়ের দোকান চালানো, অন্যদিকে পড়াশোনা। এভাবেই তিনি বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। এরপর রসায়ন শাস্ত্রে বিএসসি সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি হন পাবনার সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে। সেখানে পড়াশোনা করার ফাঁকে বাবার সঙ্গে চায়ের দোকানটি তিনি চালিয়ে গেছেন। অনার্স পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার পর শাকিল চায়ের দোকানে কাজের সময় আরও বাড়িয়ে দেন। পাশাপাশি তিনি টিউশনিও করেন। আর টিউশানি করতে গিয়েই তিনি পেশাগতভাবে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।

বৃহস্পতিবার রাতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) বাংলাদেশে বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ করে। ওই ফলাফল অনুযায়ী- শাকিল বেড়া উপজেলার আমিনপুর আয়েনউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ভৌত বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন। তার এই নিয়োগপ্রাপ্তির খবর জানাজানি হলে শাকিলকে পরিচিতজনরা অভিনন্দন জানান।

শাকিল বলেন, একসময় কেউ কেউ আমার চা বানিয়ে বিক্রি করার বিষয়টি বাঁকা চোখে দেখতেন। কিন্তু এখন অনেকেই বাহবা দেন। একদিকে আমি টিউশনি করেছি, অন্যদিকে চায়ের দোকানটিও চালিয়েছি। আমার কাছে দুটি কাজই সম্মানজনক। এখন স্কুলে স্থায়ী চাকরির সুযোগ পেলাম- এটিই হবে আমার একমাত্র পেশা।

তার মতে, কাজ না করে বেকার বসে থাকাটা শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবার জন্যই অসম্মানের।

আমিনপুর থানার প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের কাছে শাকিল এখন অনুপ্রেরণার প্রতীক। শাকিলরা তিন ভাই-বোন। অন্য দুই ভাই-বোনও পাবনার সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন।

শাকিলের দোকানে নিয়মিত চা পান করেন মাশুমদিয়া-ভবানী-পুর কে.জে.বি ডিগ্রি কলেজের কয়েকজন শিক্ষক। তাদের একজন আলাউল হোসেন। তিনি বলেন, শাকিল সব ধরনের সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠা অসম্ভব পরিশ্রমী এক তরুণ। কোনো কাজই যে ছোট নয়, তা তিনি প্রমাণ করেছেন। শিক্ষিত-অশিক্ষিত বেকার তরুণদের জন্য তিনি অবশ্যই অনুসরণীয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

এ জাতীয় আরও খবর পড়ুন

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By BD It Host
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: