শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ১০:২৭ অপরাহ্ন

গুদাম থেকে বের হলো ভালো চাল, পথিমধ্যে হয়ে গেল পঁচা!

দৈনিক বাংলার আলো ২৪ ডেস্ক / ১০২ বার পঠিত
আপডেট : শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১, ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ

(উলিপুর (কুড়িগাম) বিশেষ প্রতিনিধি)

সরকারের দেওয়া দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের উন্নতমানের চাল খাদ্যগুদাম থেকে বের হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ যাওয়ার আগেই সেই চাল খাওয়ার অযোগ্য পঁচা ও দুর্গন্ধে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি হাস্যরসের হলেও জেলার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে।

অভিযোগ উঠেছে, ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার (ওসিএলএসডি) যোগসাজসে মিল চাতাল ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট চক্র এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। শুক্রবার (১৬ জুলাই) দুপুরে এই নাটকীয় ঘটনা ঘটার পর উপজেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নে ৬ হাজার ৩০০ অসহায় দুস্থদের জন্য ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী হাতিয়া ইউনিয়নে বিতরণের জন্য ৬টি ট্রলিতে ৫০ কেজি ওজনের ৯০০ বস্তা ভালো চাল খাদ্য গুদাম থেকে বের করা হয়। প্রতি ট্রলিতে ১৫০টি করে বস্তা ছিল। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা শাহিনুর আলমের যোগসাজসে সিন্ডিকেট চক্রটি কোনো এক জায়গায় ৬টি গাড়ির মধ্যে একটি গাড়ির দেড় শ বস্তা ভালো চাল নামিয়ে নিয়ে খাওয়ার অযোগ্য পঁচা ও দুর্গন্ধযুক্ত চাল হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদে পাঠিয়ে দেয়।
শুক্রবার দুপুরে চালের বস্তাগুলো পরিষদের গোডাউনে নামাতে গেলে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের সন্দেহ হয়। পরে বস্তার মুখ খুলে ১৫০টি বস্তায় পঁচা ও দুর্গন্ধ চাল দেখতে পান। বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ অসাদু গুদাম কর্মকর্তা শাহিনুর আলমকে অবহিত করেন। গুদাম কর্মকর্তা পঁচা চালের বস্তাগুলো ফেরত পাঠাতে বললেও এর কিছু সময় পরে চালগুলো তার নয় বলে অস্বীকার করেন তি‌নি। এ নিয়ে দিনভর চলে নানা নাটকীয়তা। ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে সরেজমিন তদন্ত করেন।

নিম্নমানের চাল বহনকারী গাড়ির চালক নাহিদ ইসলাম বলেন, খাদ্যগুদাম থেকে যে বস্তা দিয়েছে আমি সেই বস্তা এনেছি। চাল ভালো না খারাপ সেটা তো আর আমি দেখিনি। চালগুলো পঁচা ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় চেয়ারম্যান নিতে রাজি হয়নি।

এ বিষয়ে হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন বলেন, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে আমাকে ফাঁসানোর জন্য এমন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। সরকার দুস্থদের ভালো চাল দিল, আর এরা আমার ইউনিয়নের জনগণের জন্য পঁচা দুর্গন্ধ চাল পাঠাল।

তিনি আরো বলেন, পরিষদের গুদামে চালের বস্তাগুলো নামানোর সময় ৫টি গাড়ির চাল উন্নত মানের হলেও ১টি গাড়ির ১৫০ বস্তা চাল প্লাস্টিকের পুরোনা বস্তা ও সরকারি সীল না থাকায় সন্দেহ হয়। ওই গাড়ির বস্তাগুলোর চাল নিম্নমানের খাওয়ার অযোগ্য পঁচা চাল হওয়ায় তা সরকারি খাদ্যগুদামে ফেরত পাঠাই। খারাপ চালের বিষয়টি আমি ইউএনও স্যার ও গুদাম কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে ওই চেয়ারম্যান বলেন, এ চালের বিষয়টি খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন, চাল গুলো কোথা থেকে এসেছে।

একটি সূত্র জানায়, উলিপুর সরকারি খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা ও ধান চাল ব্যসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন থেকে এ ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত। খাদ্যগুদামের কর্মকর্তার যোগসাজশে গুদাম থেকে উন্নত মানের চাল ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে পাঠানোর সময় পথিমধ্যে ওই সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের গুদাম থেকে ভালো চাল পরিবর্তন করে নিম্নমানের খাবার অযোগ্য চাল সরবরাহ করা হয়। এভাবে চক্রটি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পঁচা চালগুলোর মালিক মিল চাতাল ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক মাহফুজুর রহমান বুলেটের বলে জানায় সূত্রটি।

তবে মিল চাতাল মালিক সমিতির আহবায়ক মাহফুজুর রহমান বুলেট চালগুলো তার নয় বলে অস্বীকার করেন। তিনি আরো বলেন, চালগুলো সুটারের জন্য আনা হয়েছিল। ভুল করে এসব চাল হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদে পাঠানো হয়েছিল। পরে এসব চাল সুটারে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) শাহীনুর আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলাউদ্দিন বসুনিয়া বলেন, গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আমাকে জানিয়েছেন চালগুলো আমাদের নয়। চালগুলো কোথা থেকে এসেছে এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে সরেজমিন তদন্ত করেছি। কোনোভাবেই নিম্ন মানের চালের বিষয়টি মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে গুরত্ব দিয়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

এ জাতীয় আরও খবর পড়ুন

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By BD It Host
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: